Featured Posts

Most selected posts are waiting for you. Check this out

লেভানডফস্কি–রাফিনিয়াদের নিবন্ধন করিয়ে বার্সায় স্বস্তির হাওয়া

লেভানডফস্কি–রাফিনিয়াদের নিবন্ধন করিয়ে বার্সায় স্বস্তির হাওয়া

 

আরও পড়ুন

আবারও সম্পদ বিক্রি করে খেলোয়াড় নিবন্ধন করাচ্ছে বার্সেলোনা

নতুন খেলোয়াড়দের নিবন্ধন করাতে আরও সম্পদ বিক্রি করতে হচ্ছে বার্সেলোনাকে

কাল পর্যন্তও সময়ের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে বার্সাকে। লা লিগায় আজ রাতে রায়ো ভায়োকানোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লিগে নতুন মৌসুম শুরু করবে কাতালান ক্লাবটি। তার আগে শঙ্কা তৈরি হয়, যেসব নতুন খেলোয়াড়কে কেনা হয়েছে, তাঁদের লিগ শুরুর আগে নিবন্ধন করানো যাবে তো! কাল স্থানীয় সময় সকালে বার্সা চতুর্থ ‘ইকোনমিক লেভার’ চালু করে খেলোয়াড়দের নিবন্ধন করানোর পথ খুলে ফেলে।

ইকোনমিক লেভার একটা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে ক্লাবের বিভিন্ন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির আংশিক বা পুরোটা বিক্রি করে ত্বরিত নগদ অর্থ জোগাড় করা হয় দেনা শোধ করা ও অন্যান্য দায় মেটানোর জন্য। এ মৌসুমে বার্সেলোনা দেনা মেটানোর জন্য বেশ কয়েক দফায় এই ইকোনমিক লেভার পদ্ধতি বেছে নিয়েছে।

সে যা–ই হোক, চতুর্থ ইকোনমিক লেভার চালুর পর হাতে সময় বেশি ছিল না। খেলোয়াড়দের নিবন্ধিত করানোর কাগজপত্র পাঠানো হয় লা লিগার কাছে। লা লিগা কর্তৃপক্ষ বার্সাকে আগেই সতর্ক করে দিয়েছিল, হাতে সময় নিয়ে যেন কাগজপত্র পাঠানো হয়, কারণ খেলোয়াড়দের এসব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে সময় লাগবে। শেষ পর্যন্ত সময় ফুরোনোর আগেই ছয় খেলোয়াড়ের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পেরেছে বার্সা।

আরও পড়ুন

‘বার্সেলোনার পুনর্জাগরণ বিশ্ব ফুটবলের জন্যই ভালো’

নতুন করে জেগে উঠছে বার্সেলোনা

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বার্সার যে সাত খেলোয়াড়ের নিবন্ধন বাকি ছিল, তাঁদের মধ্যে ছয়জনের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে—রবার্ট লেভানডফস্কি, ফ্রাঙ্ক কেসি, রাফিনিয়া, আন্দ্রেস ক্রিস্টেনসেন, উসমান দেম্বেলে ও সের্হিও রবার্তো। এদের মধ্যে দেম্বেলে ও রবার্তোর সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করেছে বার্সা। বাকি চারজন লেভানডফস্কি, কেসি, রাফিনিয়া ও ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে জুলস কুন্দেকে এ মৌসুমে দলে ভিড়িয়েছে বার্সা।

লেভা, রাফিনিয়া ও কুন্দেকে কিনতে মোট ১৫ কোটি ইউরো খরচ হয় ক্লাবটির। ক্রিস্টেনসেন ও কেসিকে পেয়েছে বিনা ট্রান্সফার ফিতে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালের আগপর্যন্তও এসব খেলোয়াড়ের নিবন্ধন অনিশ্চিত ছিল। ভায়োকানোর বিপক্ষে ম্যাচে বার্সা কোচ জাভি তাঁদের পাবেন কি না, এ নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধে উঠেছিল। কিন্তু নিবন্ধন হয়ে যাওয়ায় লেভা, কেসি, রাফিনিয়া, ক্রিস্টেনসেন, দেম্বেলেদের ভায়েকানোর বিপক্ষে ম্যাচে পেতে এখন আর কোনো বাধা নেই।

জুলস কুন্দের অপেক্ষা বাড়ল
জুলস কুন্দের অপেক্ষা বাড়ল
ছবি: রয়টার্স

শুধু কুন্দের নিবন্ধনের জন্য আরও কিছু কাজ করতে হবে বার্সাকে। আগেই জানা গিয়েছিল, সব খেলোয়াড়ের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে বার্সাকে শুধু চতুর্থ ইকোনমিক লেভার চালু করলেই হবে না, স্কোয়াডের বেতন সীমাও কমানো লাগতে পারে। সেটাই হয়েছে। কুন্দের নিবন্ধনের জন্য স্কোয়াডের বেতন কমাতে হবে অথবা কোনো ফুটবলারকে ছেড়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন

যেভাবে কিংবদন্তিকে বিদায় দিল বার্সেলোনা

দানি আলভেজের হাতে স্মারক জার্সি তুলে দিচ্ছেন বার্সেলোনার সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা ও অধিনায়ক সের্হিও বুসকেতস। জার্সির পিঠে লেখা ৪৩১, বার্সেলোনার হয়ে এতগুলো ম্যাচ খেলেছেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার

বেতন কমানো নিয়ে জেরার্দ পিকে ও সের্হিও বুসকেতসের সঙ্গে এরই মধ্যে কথা–চালাচালি শুরু করেছে বার্সা। এ ছাড়া মার্টিন ব্রাথওয়েট ও স্যামুয়েল উমতিতি জাভির পরিকল্পনায় না থাকায় দুই খেলোয়াড়কে ছেড়ে দিয়েও সমস্যার সমাধান করতে পারে ক্লাবটি। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, পিয়েরে-এমেরিক অবামেয়াং, মেম্ফিস ডিপাইদের মধ্য থেকেও যে কাউকে ভালো প্রস্তাব পেলে বেচে দিতে পারে বার্সা।

স্প্যানিশ সময় কাল সকালে অরফিউস মিডিয়ার কাছে নিজেদের স্টুডিওর ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ বিক্রি করে চতুর্থ ইকোনমিক লেভার চালু করে বার্সা। এখান থেকে আসবে ১০ কোটি ইউরো। এর আগে আরও তিন ধাপে নিজেদের সম্পত্তির কিছু অংশ বিক্রি করেছে বার্সা। এই ধাপগুলোর একেকটিকে ‘ইকোনমিক লেভার’ বলেছেন বার্সা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা। এর আগে দুটি আলাদা প্যাকেজে সিক্সথ স্ট্রিটের কাছে নিজেদের ঘরোয়া টিভিস্বত্বের আয়ের ২৫ শতাংশ আগামী ২৫ বছরের জন্য বিক্রি করে বার্সা। এখান থেকে এসেছে ৫১ কোটি ১০ লাখ ইউরো।

এরপর সোসিওস ডট কমের কাছে নিজেদের স্টুডিওর ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ বিক্রি করে আরও ১০ কোটি ইউরো পায় বার্সা।

কিন্তু ৬০ কোটি ইউরোর বেশি অর্থ তোলার পরও গত সপ্তাহে লা লিগা কর্তৃপক্ষ বার্সাকে জানিয়ে দেয়, সব নতুন খেলোয়াড়ের নিবন্ধনের জন্য বার্সাকে আরও সম্পদ বিক্রি করতে হবে অথবা স্কোয়াডের বেতন কমাতে হবে।

এরপর কাল অরফিউস মিডিয়ার কাছে নিজেদের স্টুডিওর আরও ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ বিক্রি করে ১০ কোটি ইউরো পায় বার্সা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অন্যান্য মাধ্যমের জন্য কনটেন্ট তৈরি, বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের জন্য উপহার ও স্মারক তৈরি ও বিক্রির কাজটা করে বার্সা স্টুডিও।

সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বার্সা যেহেতু এখন লা লিগার বেঁধে দেওয়া স্কোয়াডের বেতনসীমা অতিক্রম করছে না, তাই কুন্দেকে যে বেতন দেওয়া হবে, তার সমান বেতন পাওয়া যে কাউকে ছাড়লেই ফরাসি সেন্টারব্যাকের নিবন্ধন করানো যাবে।

লেভাকে ২০ বছরের তরুণ মনে হয়েছে জাভির

লেভাকে ২০ বছরের তরুণ মনে হয়েছে জাভির

 

বার্সেলোনার কোচ জাভি হার্নান্দেজ
বার্সেলোনার কোচ জাভি হার্নান্দেজ
ফাইল ছবি

ম্যাচ শেষে অবশ্য বার্সেলোনা জাভি হার্নান্দেজের কণ্ঠে বেশিই ঝরেছে লেভানডফস্কির প্রশংসা। ৩৪ বছর বয়সী লেভাকে দেখে তাঁর কোনোভাবেই ‘বুড়িয়ে’ যাওয়া খেলোয়াড় মনে হয়নি। লেভার প্রশংসা করতে গিয়ে জাভি বলেছেন, ‘তার বয়স ৩৪ বছর হলেও তাকে দেখে মনে হয়েছে ২০ বছরের তরুণ। যে গোলগুলো সে করেছে, সেগুলো ছিল পাগুলে। সর্বোপরি এগুলোই দলের কাজে এসেছে।’

লেভার পাশাপাশি আনসু ফাতিকে নিয়েও উচ্ছ্বসিত ছিলেন জাভি। ৬৩ মিনিটে ফেরান তোরেসের বদলি হিসেবে নেমে দলের চার নম্বর গোলটি করেছেন ফাতি। ম্যাচ শেষে জাভি বলেছেন, ‘আমাদের ঝুঁকি নিতে হতো। ঝুঁকি নিয়েই রাফিনিয়া ও আনসুকে মাঠে নামিয়েছি। আমাদের আরও চার-পাঁচজন ফরোয়ার্ড ছিল। ঝুঁকি নিলেও শেষ পর্যন্ত সব ঠিকঠাকভাবেই হয়েছে।’

আরও পড়ুন

মেসির এক, নেইমারের দুই, এমবাপ্পের তিনে হ্যাটট্রিক, দ্রুততম গোলও

মেসির এক, নেইমারের দুই, এমবাপ্পের তিনে হ্যাটট্রিক, দ্রুততম গোলও
আনসু ফাতিরও প্রশংসা করেছেন বার্সেলোনা কোচ জাভি
আনসু ফাতিরও প্রশংসা করেছেন বার্সেলোনা কোচ জাভি
ছবি:: এএফপি

সব মিলিয়ে দল এ ম্যাচে যেমন খেলেছে, জাভি খুশিই হয়েছেন, ‘আমি মনে করি, খুব ভালো খেলেছি আমরা। রিয়াল সোসিয়েদাদ এমন একটি দল, তাদের পায়ে বল থাকলে আপনার ক্ষতি করে ফেলতে পারে। আমরা জানতাম, তাদের কাছ থেকে বল কীভাবে কেড়ে নিতে হয়।’

প্রথম ম্যাচে ড্রয়ের পর রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে জয়টাকে কীভাবে দেখছেন জাভি? এমন এক প্রশ্নের উত্তরে বার্সেলোনা কোচ বলেছেন, ‘ এই মাঠে (আনেওতা) জেতাটা সব সময়ই খুব কঠিন। কিন্তু আমরা জানি, প্রতিপক্ষের মাঠে কীভাবে খেলতে হয়। গত সপ্তাহে একটা ধাক্কা খেয়েছি আমরা আর এই জয় আমাদের আরও শক্তিশালী করেছে।’

ফল বিলম্বে দায়ী ৩১৮ পরীক্ষক

ফল বিলম্বে দায়ী ৩১৮ পরীক্ষক

 

কমিটি সম্প্রতি যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তাতে ফল প্রকাশে দেরি হওয়ার জন্য পরীক্ষকদের দায়িত্বে গুরুতর অবহেলার প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে ‘ভয়াবহ দায়িত্বে অবহেলা’ হিসেবে।

তদন্ত কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন পরীক্ষককে আমরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে রেখেছি। এ জন্য তাঁদের উপযুক্ত সম্মানীও দেওয়া হচ্ছে। অথচ এমন অবহেলার সঙ্গে খাতা দেখেছেন, যা দেখে আমরা অবাক হয়েছি। ফল দিতে দেরি হওয়ার অন্যতম একটি কারণ পরীক্ষকদের গুরুতর অবহেলা।’

লিখিত পরীক্ষার খাতা যেসব পরীক্ষককে দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের অনেকে ঠিক সময়ের মধ্যে খাতা দেখা শেষ করতে পারেননি উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছয় মাসে ১০০ খাতার মধ্যে মাত্র ১৫টি দেখেছিলেন। কয়েক দফা সময় নিয়ে যখন খাতা জমা দিয়েছেন, তাতেও অনেক ত্রুটি থেকে যায়। এসব ত্রুটিপূর্ণ খাতা যাচাই করে কমিটি দেখেছে, ৩১৮ জন পরীক্ষক দায়িত্বে অবহেলা করেছেন।

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেউ কেউ পরীক্ষার্থীর কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তরের জন্য নম্বরই দেননি। অনেকে খাতার শেষে থাকা প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। কোনো কোনো খাতায় পরীক্ষক নম্বরের যোগফলে ভুল করেছেন। অনেকে আবার এমনভাবে নম্বর দিয়েছেন, যা পুনর্মূল্যায়নের জন্য তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে পাঠাতে হয়েছে।

ত্রুটিপূর্ণ খাতার ব্যাপারে পিএসসির করণীয় জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো খাতায় ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষককে ডেকে এনে সংশোধন করিয়ে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়ার নিয়ম। এখন একে একে ৩১৮ জন পরীক্ষককে ডাকতে হচ্ছে।’

এরই মধ্যে কয়েকজন এসে ভুল সংশোধন করেছেন উল্লেখ করে এই সদস্য বলেন, ‘প্রতিদিন আমরা ২০–২৫ জন পরীক্ষককে পিএসসিতে ডেকে এনে ভুল সংশোধন করছি। অনেক পরীক্ষক ঢাকার বাইরে থাকেন। এ ছাড়া অনেকে ফোন ধরেন না। এভাবে ৩১৮ জনকে পিএসসিতে নিয়ে আসা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই পরীক্ষকদের মধ্যে যাঁরা দায়িত্বে ‘চরম অবহেলা’ করেছেন, তাঁদের ব্যাপারে পিএসসি কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাঁদের আর খাতা দেখতে দেওয়া হবে না। কাউকে কাউকে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে।

ভবিষ্যতে তাঁদের খাতা দিলে যদি একই ভুল আবার করেন, তাহলে তাঁরাও বাদ পড়বেন। এভাবে পিএসসি যে শুধু দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে তা নয়, যাঁরা ভালোভাবে খাতা দেখছেন এবং সময়মতো জমা দিচ্ছেন, তাঁদের তালিকাও করছে। তাঁদের আরও বেশি খাতা দেওয়া যায় কি না, সেটি ভাবছে।

সার্বিক বিষয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা কারও নাম উল্লেখ করছি না। কিন্তু এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য আমি পরীক্ষকদের অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের আরেকটু ধৈর্য ধরতে বলছি।’

নারীদের মধ্যে টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি

নারীদের মধ্যে টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি

 নারীদের মধ্যে টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি

গবেষকেরা দেখেছেন, করোনা টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পুরুষের তুলনায় নারীদের ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি দেখা গেছে। প্রথম ডোজ নেওয়ার পর ৭৮ শতাংশ নারীর কোনো না কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রথম ডোজ নেওয়ার পর পুরুষের মধ্যে এই হার ছিল ৬৯ শতাংশ। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পর ৬৫ শতাংশ নারীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল। পুরুষের ক্ষেত্রে তা ৪৪ শতাংশ।

এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ কামরুজ্জামান খান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শুধু একটি টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছি। অন্য টিকা নিয়ে গবেষণা করলে আরও তথ্য পাওয়া যাবে। গবেষণা বাড়ালে টিকা নিয়ে মানুষের সংশয় দূর হবে, টিকার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হবে।’

টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম যে পাঁচজনকে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছিল, তাঁর মধ্যে ছিলেন বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্ত্তী। টিকা নেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর বুকে ব্যথা, মাথাব্যথা শুরু হয়। তিনি চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করেন।

একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এই প্রতিনিধিকে প্রথম ভর্তি করা হয় বাগেরহাট সদর হাসপাতালে। তাঁর চিকিৎসায় একটি বোর্ড গঠিত হয়। বোর্ড বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্ত্তীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেয়। বিষ্ণুকে পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) পাঠানো হয়।

গত শনিবার (২০ আগস্ট) বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্ত্তী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএসএমএমইউতে ২২ দিন ভর্তি ছিলাম। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছিল। কিন্তু অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এরপর আমি ভারতের হায়দরাবাদ ও বেঙ্গালুরুর দুটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিই। আমি এখনো সুস্থ হয়ে উঠতে পারিনি।’

বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্ত্তীর চিকিৎসায় গঠিত কমিটির প্রধান ছিলেন বিএসএমএমইউয়ের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সোহেল মোহাম্মদ আরাফাত। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অন্যান্য টিকার মতো করোনার টিকারও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, দেখা দিয়েছে। অ্যালার্জিজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকের প্রভাব পড়ে স্নায়ুতন্ত্রে।’

দেশে এ পর্যন্ত ১২ কোটি ৯৮ লাখ মানুষকে করোনা টিকার প্রথম ডোজ এবং ১২ কোটি ১০ লাখ মানুষকে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। আর তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে ৪ কোটি ২৫ লাখ মানুষকে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনা টিকার গুরুতর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তথ্য তেমন নেই। মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে।

যেমন টিকা দেওয়ার পর জ্বর, টিকা দেওয়ার স্থানে ব্যথা বা সারা শরীরে ব্যথা। তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার যে দু–একটি খবর পাওয়া গেছে, পরে সেগুলো অনুসন্ধান করা হয়। এতে দেখা গেছে, এর সঙ্গে টিকার সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।’

এখনো কেউ পাচারের টাকা ফেরতের সুযোগ নেননি

এখনো কেউ পাচারের টাকা ফেরতের সুযোগ নেননি

  জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রধান কার্যালয়

এনবিআরের একাধিক আয়কর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেয়াদের শেষ দিকে সাধারণত এ ধরনের সুযোগ করদাতারা বেশি নেন। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে তাঁরা মনে করেন।

গত ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত, অর্থাৎ এক বছরের জন্য ব্যাংকিং চ্যানেলে বিদেশ থেকে অর্থ আনলে ৭ শতাংশ কর দিয়ে তা কর নথিতে দেখালেই বৈধ হয়ে যাবে, এমন সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই সুযোগ নিলে এনবিআরসহ অন্য কোনো সংস্থা এই বিষয়ে প্রশ্ন করবে না। পাশাপাশি বিদেশে সম্পদ বা অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেলে শাস্তি হিসেবে সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা করার ক্ষমতা কর কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে।

তবে শর্ত নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। এই বিধান চালুর এক মাস সাত দিন পর ৭ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে বিদেশ থেকে অর্থ এনে
কর নথিতে দেখানোর ব্যাখ্যা দেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। তিনি জানিয়েছেন, কালোটাকা নয়, বিদেশে থাকা বৈধ টাকা দেশে এনে কর নথিতে দেখানো যাবে, যদিও এনবিআর চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যের সঙ্গে প্রজ্ঞাপনের মিল নেই।

এর এক দিন পরই বাংলাদেশ ব্যাংক একটি আদেশ জারি করে। ৮ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের চিঠি লিখে জানায়, ৭ শতাংশ কর দিয়ে বাংলাদেশের বাইরে যে কোনোরূপে গচ্ছিত ও অপ্রদর্শিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈধভাবে দেশে এনে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করা যাবে।

যেহেতু ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশ থেকে ওই অর্থ দেশে আসবে, সেহেতু কোথাও প্রশ্ন করার সুযোগ নেই যে ওই অর্থ বিদেশে বৈধ, নাকি অবৈধভাবে গচ্ছিত ছিল।

তবে বিভিন্ন দেশ থেকে অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিধিনিষেধ আছে। এসব বিধিনিষেধের কারণে অনেকেই উৎসাহী হন না।